আজ ২৪ রমজান। পবিত্র মাহে রমজানের মাগফিরাত দশকের আজ চতুর্থ দিন। রমজান মাস বেশী বেশী দান-খয়রাত করার মাস। এই মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াবকে কমপক্ষে সত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয়। এই মাসের নফল আমল অন্য মাসের ফরজের সমান। এই জন্য এই মাসে দান-খয়রাত করলে অন্য মাসের চেয়ে অনেক গুণ বেশী সওয়াব পাওয়া যাবে। হুজুর (সাঃ) সর্বদা গরীব ও অভাবীদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ও দয়াপ্রবণ ছিলেন। কীভাবে গরীব মানুষের মুখে হাঁসি ফোটানো যায় এই জন্য সর্বদা ব্যাতি-ব্যস্ত থাকতেন। তার কাছে কেউ কোনো কিছু সওয়াল করলে তিনি কখনও তাকে খালি হাতে ফিরাতেন না, নিজের সাধ্যমতো দান করতেন।
হতদরিদ্র ও নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করতে দয়ার নবী (সাঃ) এরশাদ করেন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের সবুজ বস্ত্র পরিধান করাবেন। যদি কেউ কোনো ক্ষুধার্তকে খানা খাওয়ায় আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। আর যদি কেউ কোনো পিপাসিতকে পানি পান করাবে মহান আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতের মোহরযুক্ত পানীয় পান করাবেন (আবু দাউদ, তিরমিজী)।
আর এক হাদিসে হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন, “তোমরা জাহান্নামের আগুন হতে নিজেকে বাঁচাও একটি খেজুর দান করে হলেও। জাকাত ছাড়াও মালের ভেতর আরও অনেকের হক রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, সৎকাজ শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় যে, তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে ফিরাবে, বরং প্রকৃত সৎকাজ হলো ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, কেয়ামতের দিন ও ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানি কিতাবসমূহ ও পয়গম্বরদের উপর; তদুপরি ধন-সম্পদ প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও দান করে আত্মীয়-স্বজন, এতিম-মিসকিন, ভিক্ষুক এবং গোলাম আজাদ করার ব্যাপারে, আর নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে (সূরা বাকারা: ১৭৭)।”
দান করলে মাল কমে না, বরং বাড়ে। তা ছাড়া নফল দান-সদকায় বালা-মুসিবত দূর হয় ও রোগ-শোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অনেক আয়াতে গরীব, দুঃখীদেরকে দান করার আদেশ দিয়েছেন। তাই আসুন আমরা সবাই নাজাতের এই মাসে বেশী বেশী দান করি এবং বাড়তি নেকি হাসিল করি।
খুলনা গেজেট/এনএম

